1. admin@drstisimana.com : admin :
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ
কালিয়াকৈরে নৌকার মাঝি হলেন রেজাউল করিম রাসেল। রাজশাহীর বাঘাতে পেয়ারার ক‍্যারেটে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক দুই। ময়মনসিংহের ফুলপুরে বিএমএসএফ’র কমিটি গঠন,সভাপতি মিজান সা: সম্পাদক রায়হান। গাজীপুরে আখের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা। স্থায়ী জামিন পেলেন সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক। নওগাঁয় র‌্যাবের অভিযানে হেরোইন ও ফেন্সিডিলসহ ৩ জন গ্রেফতার। কালিয়াকৈরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত। পথিকৃৎ প্রকাশনী-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেন কথাসাহিত্যিক ও কবি শফিক রিয়ান। মুরগির মাংস খাওয়া কে কেন্দ্র করে ছেলের বউ এর লাঠির আঘাতে শাশুড়ি খুন। খুলনার পাইকগাছা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ বন্ধ মেয়ের পিতার অর্থদন্ড।

জাতির অভিভাবকরাই অভিশপ্ত কেন!

মোঃ রাসেল হাসান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে:

সাহিত্য মানব জাগরণের চাবিকাঠি। উদাহরণের দেখা আমরা যেদিকে তাকাই সেদিকেই উপস্থিত। আমরা যদি একাত্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দিকে তাকাই আমরা দেখতে পাই যে, কবি সাহিত্যিক এবং গীতিকাররা তাঁদের লেখা দ্বারা, গান দ্বারা মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। বাঙ্গালীদের যুগিয়েছেন অনুপ্রেরণা, দিয়েছেন সাহস, পাকিস্তানি হানাদারদের একেকবার শিহরিত করে তুলেছেন তথা স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছেন। আমরা যদি আমাদের ভাষা আন্দোলনের দিকে তাকায় তাহলেও চিত্র একই রকম দেখা যায়, ভাষা আন্দোলন হয়েছে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য। আমাদের প্রাণের অক্ষরগুলোকে রক্ষা করা এবং মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য। কবি সাহিত্যিকরায় সে লেখাগুলোকে সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন এবং চর্চা করেন। সৃষ্টি করেন নতুন নতুন নক্ষত্র। আর সেই কবি সাহিত্যিকরায় আজ অবহেলিত! অভিশপ্ত! কবি-সাহিত্যিকরা জাতির অভিভাবক। তাঁরা কখন থেকে জাতির এই গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছেন তা আমাদেরকে ইতিহাসই বলে দেয়। তাঁদের লেখা যুদ্ধে মহাযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা দিয়েছে। যা মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের চেয়ে কম বলা যাবে না। কবি সাহিত্যিকদের লেখা গানই আমাদের জাতীয় সঙ্গীত, তাঁদের লেখাই আমাদের রণসঙ্গীত। তাঁদের লেখা কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ পড়েই আমরা বড় হই, জ্ঞানার্জন করি, মননের বিকাশ ঘটায়। একটা শিশু যখন ভালোভাবে কথা বলতে শিখে তখনই সে একটানা ছড়া কাটে। শিশুর শিক্ষার প্রথম মন্ত্রটাও কবি সাহিত্যিকদের লেখা। অথচ আজ কবি সাহিত্যিকদের যথেষ্ট মূল্যায়ন নেই। কবিরা আজ চিকিৎসার অভাবে মারা যায়! যারা রাষ্টীয় স্বীকৃতি তথা একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কার বা স্বাধীনতা পুরস্কার পান তাঁদের কিছুটা মূল্যায়ন করা হয়। এটাও তো পেলে তাঁরা জীবনের শেষভাগে পান। এত এত বছর লিখে যাঁদের চোখের নিচে কালো পড়ে যায়, তাঁদেরকে এভাবে অবহেলা, তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য করা অদৌ ঠিক হচ্ছে? একুশে পদক প্রাপ্ত একজন কবিরও একজন বডিগার্ড নেই! নিরাপত্তা নেই! নিরাপত্তা আছে ক্রিকেটারদের! ফুটবল খেলোয়াড়দের! যাঁদের পেছনে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে! করুক, এতে তো দোষের কিছু দেখি না আমি। তারা বহির্বিশ্বে দেশের মুখ উজ্জ্বল করে! কিন্তু ক্রিকেটাররা যাঁদের লেখা গল্প কবিতা পড়ে বড় হয়। তাঁদের পেছনে সরকার কত টাকা খরচ করে! খেলোয়াড়দের কত ফান্ড! এসি গাড়ি, কয়েক তলা বাড়ির অভাব নাই! তাতেও তো দোষের কিছু দেখি না আমি। কিন্তু জাতির অভিভাবকরা চিকিৎসার অভাবেও মারা যায়! যেটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক! জাতির জন্য লজ্জাজনক! সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একার পক্ষে এতটা খেয়াল রাখা হয়তো সম্ভব না। সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাঁরা এ বিষয়টা দেখলে হয়তো এ লজ্জার অবসান ঘটানো সম্ভব।

কবি-সাহিত্যকরা জাতির সবচেয়ে নির্লোভী মানুষ। তা যদি না হত তাহলে তারা কেন এভাবে নিঃস্বার্থভাবে জীবনভর লিখে যান? আসলে তাঁরা টাকার জন্য লেখেন না, বিত্তশালী হওয়ার জন্য লেখেন না। কলমই যাঁদের হাতিয়ার। তাঁরা কখনো টাকার জন্য উন্মাদ নয়। কবিরা কত বাধা- বিপত্তি অতিক্রম করেন, একমাত্র তারাই জানেন।
আমাদের গণমাধ্যমগুলিও একটু দৃষ্টি দিলে এই জাতীয় সমস্যার সমাধান ত্বরান্বিত হবে। আমরা দেখতে পাই ক্ষুদে গায়ক বা শিল্পদের নিয়ে টেলিভিশনের পর্দায় কত বিচিত্র আয়োজন। সত্যিই ভালো লাগার বিষয় এটা। কিন্তু মাধ্যমিক স্কুলে পড়ুয়া কোনো একজন অসামান্য লেখককে টেলিভিশনের পর্দায় দেখা দুর্লভ। তাঁদেরকে নিয়েও তাঁদের সৃষ্টিকর্মের আয়োজন করা হোক। তাঁদের ছবি দেখানো হোক টেলিভিশনের পর্দায়। গায়কদের মতো তাঁদেরকেও দেওয়া হোক উৎসাহ, অনুপ্রেরণা।
যদি প্রধানমন্ত্রী নজর দিয়ে এই রাষ্টীয় সমস্যার প্রতিকার যোগান তবে হয়তো ঘটবে কবি-সাহিত্যিকদের অভিশপ্ত জীবনের অবসান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
আমাদের এখান থেকে কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং আমাদের এখানে প্রচারিত সংবাদ সম্পূর্ণ আমাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া। কোন প্রকার মিথ্যা নিউজ হলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না সম্পূর্ণ দায়ী থাকিবে নিউজ পেরন কারী সাংবাদিক। (মানবিক দৃষ্টি সীমানা ফাউন্ডেশন এর একটি প্রতিষ্ঠান) 
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: FT It