1. admin@drstisimana.com : admin :
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ
কুমিল্লাতে কোরআন অবমাননার ঘটনায় রাণীশংকৈলে প্রতিবাদ মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত। রামচন্দ্রপুর মেম্বার পদপ্রার্থী জাকারিয়া খানকে সকলে চায়। আড়ানী বিট পুলিশিং এর আয়োজনে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত। রেকর্ড জয়ে বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ।। ফাইতং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার্থে বিট পুলিশ মতবিনিময় সভা। কবি মোঃ রাসেল হাসান এঁর কবিতা ‘মনের ভিটা’। বিনোদপুর ইউনিয়ন বাসী নৌকার প্রার্থী হিসেবে শরীফুল মাষ্টারকে চান। উলিপুরে ক্ষতিগ্রস্থ মন্দির ও পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ। জলঢাকায় ডাভ সেলফ এস্টিম প্রকল্পের অবহিতকরন সভা অনুষ্ঠিত। সনাতন সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে গাজীপুরে বিক্ষোভ।

কষ্টে আছে কালিয়াকৈরের মুচি সম্প্রদায়, নেই কোন আর্থিক সহায়তা।

মো. ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময়: শনিবার, ৫ জুন, ২০২১
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে:

যুগ যুগ ধরে আমাদের পায়ের জুতা সৌন্দর্যবর্ধক করণ মেরামত ও তৈরি করার কাজে নিয়োজিত আছে মুচি সম্প্রদায়। করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সারা বাংলাদেশসহ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মুচি সম্প্রদায়।জানা গেছে, উপজেলার শতাধিক মুচি পরিবার অর্থের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপজেলার সফিপুর, মৌচাক, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা ও কালিয়াকৈর বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় বসে জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন তারা। আবার কেউ কেউ পাড়া-মহল্লায় গিয়ে জুতা মেরামতের কাজ করেন। তবে করোনায় কাজ না থাকায় বেশিরভাগ মুচি ঘরে বসে আছেন। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে কাজে বসলেও মিলছে না আশানুরূপ কাস্টমার।কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় অনেককেই মলিন মুখে বসে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। কেউ কেউ বসে তাদের সেলাইয়ের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্র শান দিচ্ছে। তবে তাদের কারো কাছেই মাস্ক ছাড়া করোনা ভাইরাসের অন্য কোন সুরক্ষা সরঞ্জাম দেখা যায়নি। উপজেলার কালিয়াকৈর বাজার এলাকার মুচি শ্রী বাসুদেব জানান, ‘আমার পরিবারে আমার স্ত্রী দুই মেয়ে, দুই ছেলে ও মাসহ মোট ৭ জন সদস্য। ইনকাম না থাকায় পরিবার নিয়ে দু’বেলা খাওয়াটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে কীভাবে এসব সুরক্ষা সরঞ্জাম কিনে ব্যবহার করবো। ইনকামের অবস্থা খুবই খারাপ। কাজ একদম কম। লকডাউনের কারণে তো আগের মতো মানুষের চলাফেরা নাই। গতকাল সারাদিনে মাত্র একশো বিশ টাকার কাজ করেছি। আজ সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেলো মাত্র কয়েক টাকার কাজ হয়েছে। তবে লকডাউনের আগে প্রতিদিন ছয়শো থেকে আটশো টাকা পর্যন্ত কাজ করতে পারতাম।সফিপুর এলাকার মুচি সম্প্রদায়ের মৃত সত্যেন্দ্রর ছেলে কনাই জানান, আমি সকাল থেকে মাত্র ১০ টাকার কাম করছি আর গতকাল ৮০ টাকার কাম করছিলাম। বর্তমানে এমন ইনকাম দেইখা আমার ছেলে এই কাম করতে রাজি হয় না। সে নাকি গ্যারেজের কাম করবো। কি আর করমু। এহন স্কুল বন্ধ তাই গ্যারেজের কাম শিখাইতাছি।তিনি আরো বলেন, আমার বাপ-দাদার এই পেশা আমি অনেক কষ্ট করে ধরে রেখেছি। আমার পরিবারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে এক ছেলে। এ কাজ করে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়ে যায়। তাই ছেলে-মেয়েকে কয়েক ক্লাস পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছি। ইনকামের এই দুরবস্থা দেখে আমার ছেলে সবুজ বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে এখন রিকশা চালায়। আমাদের বর্তমানে খুবই করুণ অবস্থা।অন্যদিকে মুচি ক্ষিতিষ বলেন, করোনা আসার পর থেকে আমাদের কেউ কোনো সহযোগিতা করে নাই। আমরা কিভাবে দিনপাত করি এটা দেখার কেউ নাই। আমরা কি এদেশের নাগরিক না? আমরা কি ভোট দেই না? করোনার কারণে আমাদের ইনকাম নাই বললেই চলে এভাবে আমাদের সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। কালিয়াকৈর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী মুচি সম্প্রদায় নিয়ে বর্তমান সরকার কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অতি শীগ্রই তাদেরকে তিন মাস অথবা ছয় মাস করে আলাদা ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এমনকি তাদেরকে এককালীন আঠারো হাজার টাকা প্রদান করা হবে। করোনাকালীন সময়ে সুরক্ষা জনিত বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তবে আর্থিক কোনো সহায়তা করা হয়নি।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সেলিম আজাদ জানান, আমাদের মাসিক সাধারণ সভায় এ সম্প্রদায়ের মানুষের মানবেতর জীবনযাপন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শিগগির আমাদের উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাদের আর্থিক প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
আমাদের এখান থেকে কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং আমাদের এখানে প্রচারিত সংবাদ সম্পূর্ণ আমাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া। কোন প্রকার মিথ্যা নিউজ হলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না সম্পূর্ণ দায়ী থাকিবে নিউজ পেরন কারী সাংবাদিক। (মানবিক দৃষ্টি সীমানা ফাউন্ডেশন এর একটি প্রতিষ্ঠান) 
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: FT It