1. admin@drstisimana.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ
মুন্সীগঞ্জে পানের দাম কমে যাওয়ায় চাষীদের মাথায় হাত। স্ত্রীর মামলায় সওজের প্রকৌশলী ঝিনাইদহ র‌্যাবের হাতে আটক। কাল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন বির্দশন বড়ুয়া। ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি ভালুকা’ এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকিতে ব্যাপক প্রস্তুতি। বুড়িগোয়ালিনী নৌকার প্রার্থী সুন্দরবন প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা। শ্রীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচনে নতুন সভাপতি আঃ লতিফ, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন। ছেলে কে ভর্তি করাতে এসে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল পিতার। মহাদেবপুরে নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত। নেত্রকোনায় দাদন ব্যবসায়ী ও অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

প্রথা (ছোটগল্প)।

সাহিত্য ডেস্কঃ
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে:

প্রথা (ছোটগল্প)
লেখকঃ মোছাঃ সাথী
ঘন কুয়াশার চাদরে ঘিরে রেখেছে শান্তিপুর গ্রামটাকে। চারিদিকে খেজুরের রসের গন্ধে মোঁ মোঁ করছে। শান্তিপুর গ্রামটা আসলেও শান্তিতে পরিপূর্ণ। গ্রামটি প্রধানত দুটি পাড়ায় বিভক্ত, পূর্বপাড়া আর পশ্চিমপাড়া। এই দুটি পাড়ার মধ্যে আবার ছোট ছোট কয়েকটি পাড়া আছে। পূর্বপাড়ায় বাস করে মুসলিম সম্প্রদায় আর পশ্চিমপাড়ায় বাস করে হিন্দু সম্প্রদায়। তাদের মাঝে ধর্মের পার্থক্য থাকলেও হাতে গোনা কিছু মানুষ বাদে বাকীদের আচার-ব্যবহার, চাল-চলনে তেমন কিছু বোঝা যেত না। তাদের বেশিরভাগই ছিল মধ্যবিত্ত, যাদের স্বপ্ন থাকে আকাশ ছোঁয়া কিন্তু সাধ্য- “থাক আজ না, আরেকদিন হবে”। শান্তিপুরের মানুষ বেশ শিক্ষাপ্রিয়, তাই গ্রামের আনাচেকানাচে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন শিক্ষালয়। গ্রামের সকল হিন্দু-মুসলিম ছেলে-মেয়েরা একই স্কুল-কলেজে পড়তো। সেই গ্রামে একটি কলেজও ছিল, নাম “মারফত আলী সরকারি কলেজ”। উপজেলার মধ্যে এটিই সবথেকে ভালো ও একমাত্র সরকারি কলেজ। শোনা যায়, অনেক আগে একজন নেতা উদ্যোগ নিয়ে এই কলেজের কাজ শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তার নামানুসারে এই কলেজের নামকরণ করা হয়েছে। সেই কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ও আকাশ চ্যাটার্জী। অনার্স প্রথম বর্ষ থেকেই দুজন দুজনকে বেশ পছন্দ করে কিন্তু জান্নাত মুসলিম ও আকাশ হিন্দু তাই কেউ কাউকে বলতে পারে না। তৃতীয় বর্ষে এসে আকাশ জান্নাতকে বলেই দিলো। কিছুদিন তাদের মাঝে কথাবার্তা হলো। জান্নাত লেখাপড়াই তেমন ভালো ছিলো না তাই দ্রুতই জান্নাতের বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য ছেলে খোঁজা শুরু করলো। জান্নাত বিষয়টা আকাশকে জানালো। আকাশ পুরোপুরি বেকার নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসে কম্পিউটারের কাজ করে, বেশ ভালোই ইনকাম হয় সেখান থেকে। তাই জান্নাত ও আকাশ মিলে সিদ্ধান্ত নিল, তারা তাদের বিষয়টি বাড়িতে বলবে। তারা গিয়ে বাড়িতে বলল, তারা দুজন দুজনকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবে না। কথাটি শুনে বাড়ির লোকদের মাথায় যেন বাজ ভেঙ্গে পড়লো। একি কান্ড ঘটিয়েছে তারা, এটা অসম্ভব। হিন্দু-মুসলিমের কখনোই সম্পর্ক হতে পারে না। জান্নাত, আকাশ ও কিছু বন্ধুরা মিলে বসলো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য কিন্তু কিছুতেই কোন সমাধানের পথ আসলো না। বিয়ের সময় যেকোনো একজনকে ধর্ম পরিবর্তন করতে হবে। স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট-১৮৭২ অনুযায়ী বিয়ে করলে কাউকে ধর্ম পরিবর্তন করা লাগবে না ঠিকই কিন্তু বাচ্চা হলে সেই বাচ্চার পরিচয় কি হবে? হিন্দু নাকি মুসলিম? বাবা চাইবে আমার ধর্মের হোক আবার মা চাইবে আমার ধর্মের হোক কেননা সংসার নিয়ে সবারই একটা স্বপ্ন থাকে ছেলেবেলা থেকেই আর যার যার ধর্ম তার তার কাছে সেরা। তাই অবশেষে আকাশ ধর্ম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিল। তারা কেউ যেমন কাউকে ছাড়া স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবে না ঠিক তেমনি তারা তাদের পরিবার ছাড়াও স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবে না। আকাশ বাড়িতে ফিরে তার পরিবারের সবার সাথে কথা বলল বিষয়টি নিয়ে, তাদেরকে জানালো তার সিদ্ধান্ত। পরিবারের সবার মুখ যেন আষাঢ় মাসের পশ্চিমাকাশের মেঘের মতো হয়ে গেল। কারণ তার বাবা-মা বৃদ্ধ, এক ভাই এইচএসসি পরীক্ষা দিবে। বাবা একসময় শিক্ষকতা করতেন, এখন টিউশনি করে সামান্য টাকা উপার্জন করেন। আকাশের উপার্জনের উপর ভর করেই কোনরকমে তাদের সংসার চলছে। তার বাবা জানালেন, ধর্ম পরিবর্তন করলে আকাশ তাদের সাথে আর কোন যোগাযোগ রাখতে পারবে না। ধর্ম পরিবর্তনের মুহূর্ত থেকেই তার পরিবার, তার বিগত চব্বিশ বছরের অস্তিত্ব সবকিছুর সাথে সব বন্ধন ছিন্ন করতে হবে তাকে। ধর্ম পরিবর্তনের পরেও যদি আকাশের সাথে তার পরিবার যোগাযোগ রাখে তাহলে সমাজ তাদেরকে আলাদা করে দিবে। শুনে খুব চিন্তাই পড়ে গেল আকাশ, চুপ করে রইল। তখন তার বাবা বলল, আজ সিদ্ধান্তটা তোমাকে একাই নিতে হবে আকাশ। ভাবো, তোমার জীবনে কে থাকবে? জান্নাত নাকি তোমার পরিবার? তখন আকাশ কিছু না বলে চুপচাপ বাড়ি থেকে বের হয়ে এসে বাড়ির পাশের রাস্তায় হাঁটছিল একা একা আর ভাবছিলো, কি করবে সে? কোন দিকে হাঁটবে? একদিকে জান্নাত আর একদিকে তার পরিবার। জান্নাত যেন তার হৃৎপিণ্ড আর পরিবার যেন তার শরীরের রক্ত, যার কোন একটিকে ছাড়া তার জীবন স্বাভাবিক নিয়মে চলবে না। যতই চিন্তার চোরাবালিতে হাঁটাহাটি করছে ততই যেন দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে সে। ভাবতে ভাবতে সে হঠাৎ পড়ে গেল। পিছনে তাকাতেই দেখতে পেল একটা ট্রাক অনেকক্ষণ হর্ণ দিয়েছে কিন্তু আকাশ চিন্তায় এতোটাই নিমগ্ন ছিল যে, তার কান পর্যন্ত হর্ণের আওয়াজ পৌঁছাতে পারে নি। সাথে সাথে রাস্তার আশেপাশের লোকজন তাকে পাশের একটা হাসপাতালে নিয়ে গেল। মাথায় আঘাত পেয়েছিল, প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। দুর্ঘটনার স্পটেই আকাশ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। হাসপাতালে নেওয়ার সাথে সাথে ডাক্তার বলল, অনেক রক্ত ক্ষরণ হয়েছে, ইমার্জেন্সি ৪ ব্যাগ ব্লাড লাগবে। ব্লাড দেওয়ার পরে জ্ঞান ফিরলে অপারেশন করতে হবে, রোগীর কন্ডিশন ক্রিটিক্যাল। এবি নেগেটিভ ব্লাড হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে নাই, আপনারা দ্রুত ব্লাডের ব্যবস্থা করুন। ততক্ষণে আকাশের পরিবার, জান্নাত ও বন্ধুরা অনেকে হাসপাতালে পৌঁছে গেছে। সবাই মিলে ব্লাড খুঁজতে লাগলো কিন্তু কেউই এই গ্রুপের ব্লাড ম্যানেজ করতে পারলো না। কয়েকজনের রক্তের গ্রুপের সাথে মিলেছিল তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ নানা অজুহাত দেখিয়ে ব্লাড দিতে রাজি হয় নি আবার কেউবা নেশাগ্রস্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এক্সিডেন্টের ১৮ ঘন্টা পর আকাশ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো। তার জ্ঞান ফেরার সম্ভাবনা চিরদিনের মতো শেষ হয়ে গেল, আর কোনদিন ব্লাড লাগবে না তার। সংবাদটি ছড়ানোর সাথে সাথে হাসপাতালে কান্নার রোল পড়ে গেল। আকাশের মা ও জান্নাত বেশি অসুস্থ হয়ে গেছিল। আকাশের মা’কে ডাক্তার স্যালাইন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখলো। জান্নাত কাঁদতে কাঁদতে আগেই অজ্ঞান হয়ে গেছে। ডাক্তার জান্নাতকে কিছুক্ষণ দেখার পরে মেডিসিন দিল আর কিছু টেস্ট করে জানতে পারলো সে ব্রেইনস্ট্রোক করেছে, মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে সে। চিকিৎসা করে শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও, মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হবে কি না সেটা জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত বলা যাবে না। জ্ঞান ফিরলেও জান্

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
আমাদের এখান থেকে কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং আমাদের এখানে প্রচারিত সংবাদ সম্পূর্ণ আমাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া। কোন প্রকার মিথ্যা নিউজ হলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না সম্পূর্ণ দায়ী থাকিবে নিউজ পেরন কারী সাংবাদিক। (মানবিক দৃষ্টি সীমানা ফাউন্ডেশন এর একটি প্রতিষ্ঠান) 
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: FT It